বহু দিন হল নতুন করে কিছু লেখা হয় নি। রোজই ভাবি কিছু একটা লিখব, কিন্তু আলস্য এসে এমন চেপে ধরে যে আর কিছু লিখতে ভাল লাগে না। এখন তো খবর শুধু একটাই, টাটা রা মটর কারখানা গুটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে যাবে না কি, অনন্ত কাল ডামাডোল চলবে? কারও কোন মন নেই আজকাল অন্য কোন ব্যাপারে। শুধু টাটা আর টাটা টিভি খুললেই সর্বক্ষণ দেখিয়ে চলেছে। এর থেকে বড় রিয়েলিটি শো আর হয় না এ বঙ্গে। এ সবের মাঝেও একটা খবরে আজ চোখ আটকে গেল কাগজে। এক মা অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রী করে দিয়েছিলেন আর এক মা হতে চাইছেন, কিন্তু পারছেন না এম্ন এক মা কে। চার মাস বাদে জন্মদাত্রী মা সন্তান ফেরত চাইছেন পালিকা মায়ের কাছ থেকে। কাগজে আরও লিখেছে যে সন্তান টি হবার আগে থাকতেই, তার সাথে পালিকা মায়ের পাঁচ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল, সন্তান হবার পরেই তিনি তাকে তাঁর হাতে দিয়ে দেবে্ন। জন্মদাত্রী মা হসপিটালেও পালিকা মায়ের নাম নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়েও দু টো কথা থাকে। টাকা দিয়েই কি কোন মায়ের প্রসব যন্ত্রণা কিনে নেওয়া যায়? অন্য দিকে যে পালিকা মা ছোট্ট বাচ্চাটিকে প্রথম থেকে বুকের মধ্যে জরিয়ে ধরে তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেছে তার যন্ত্রণা টাও এখন কি কম হবে।
This is a personal blog of a person who is sensitive to the events that are happening surrounding him.
Sunday, August 31, 2008
মা কে?
Sunday, April 13, 2008
পয়লা বৈশাখের শপথ
আজ পয়লা বৈশাখ, ১৪১৫। ইংরাজী বছরের ধাক্কায় আজ বাংলা বছর কেমন যেন কোণথাসা। তবুও এই পয়লা বৈশাখের দিনটা অন্য সব দিনের থেকে কোথায় যেন আলাদা। গতকাল এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে বলে গরমের তেজটা যেন একটু বাগে আছে। তাই ভোরে কখন সময় ললিত থেকে ভৈরবী তে গরেয়ে গেছে খেয়াল ছিল না। পাশে চেয়ে দেখলাম মেয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে। দেখে মায়া হল। আর তখনই মনে পড়ল ঝাড়খন্ডের সেই মেয়েটার কথা যে বাবা মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল রাজস্থান। বেড়ানোর শেষে যখন বাড়ী ফেরার পালা এল তখন বাবা মা তাকে বললো যে সে আর তাদের সাথে ফিরতে পারবে না বাড়ী। কি তার অপরাধ? না, জানতে চাই নি সে মেয়ে। কারণ সে তখন বুঝে গেছে কি তার অপরাধ। সে যে মেয়ে হয়ে জন্মেছে। এই গরীব দেশে মেয়ে হয়ে জন্মানো কি কম অপরাধ? ট্রেন চলে গেল। একা দাঁড়িয়ে রইল সেই মেয়েটা স্টেশনে। কেঁদে চলেছে অঝোরে। না ভয়ে নয়। সে বড় সাহসী। মেয়ে তো। কাঁদছে অভিমানে। বুক ভরা অভিমান তার। পুলিশ তার বাবা মাকে খুঁজে বের করলেও সে আর ফিরবে না তাদের কাছে। কেন ফিরবে সে? সারে যাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা। সেই চ্ছোট্ট মেয়েটার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাহায্য এসেছে অফুরন্ত। কিন্তু যে সব মেয়ের কথা খবর হয় না, যে সব মেয়ে কেঁদে চলে জীবন জুড়ে? আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকালেই সেই মেয়ে গুলোর চোখ যেন আমি দেখতে পাই। তাই আজ শপথ করি দাঁড়াবো আমি তাদের পাশে, দাঁড়াতে যে আমাকে হবেই। আমারো যে একটা মেয়ে আছে। এ শপথ বাংলা নববর্ষের শপথ, ইংরাজী নববর্ষের নয়। তাই ভাঙ্গবে না আশা করি।
জীবন তরঙ্গে ভেসে যাওয়া
আমাদের চারপাশে কত না ঘটনাই প্রতি নিয়ত ঘটে চলেছে। তার মধ্যে সব কিছুই তো আর আমাদের সমান ভাবে নাড়া দেয় না। কিছু ঘটনা প্রবল ভাবে নাড়া দিয়ে যায়, আবার কিছু ঘটনা একটু খানিকের বেশি দাগ কাটে না। এই নানা রকম দাগ ফেলা ঘটনা নিয়েই আমার এই ব্লগ।