Friday, March 26, 2010

এলোমেলো জীবন

বেশ কয়েক দিন ধরে জীবনটা বেশ এলোমেলো ভাবে গড়াচ্ছে। হাঁ এটাকে গড়ানো বলাই ভাল। তারই মধ্যে মাঝে মাঝে আসছে না যে দখিনা বাতাস তা বলা যাবে না। এই যেমন কদিন আগে হল। আমার ইচ্ছা ছিল একটা বাইক কেনার পরের মাসে। এতদিন একটা ই-বাইক, অর্থাৎ ব্যাটারী চালিত বাইক চালাচ্ছিলাম। কিন্তু যতই পরিবেশের প্রতি দায়ব্ধ্যতা, সাশ্রয়ী---এই সব বোঝাই না কেন নিজের মনকে, সেটা খুব একটা ভাল ছিল না। ইদানিং নড়বড় করত বেশী। ব্রেকের সমস্যা ছিল, বিশেষ করে পেছনে কেউ বসলে। তাই ভেবেছিলাম এবার একটা ভাল পেট্রল চালিত বাইক কিনব। আমার যা জীবন যাত্রা তাতে হিরো হোন্ডার সুপার সপ্লেন্ডার বাইকটাই ভাল বা বলা ভাল ওটাই ঠিক ঠাক যায় আমাদের লাইফ স্টাইলের সাথে। তাই গত বৃহস্পতিবার গিয়েছিলাম দেখতে শোরুমে গাড়ীটা দেখতে। আমার সাথে আমার বেশ কিছু সহকর্মীও গিয়েছিলেন। তাদের সহকর্মী না বলে বন্ধু বলাই ভাল। এই ব্যাপারে সত্যি আমি ভাগ্যবান। কারণ কর্মস্থলে নাকি কেউ বন্ধু হয় না, এই আপ্ত বাক্য কে ভুল প্রামাণিত করে, আমার সত্যি বেশ কয়েক জন ভাল বন্ধু আছে কলেজে। এরা হল দেবাশীষ, অর্ঘ্য, গৌরব, অজন্তাদি, জয়তী, আর তার ওপর ছাতার মতন সব রোদ বৃষ্টি আড়াল করে থাকা চপলদা। তা সেদিন চপলদা ছাড়া, বাকীরা প্রত্যেকেই গিয়েছিল আমার সাথে। ওরা খুব ইয়ার্কী মেরে হেউত তুলেছিল আমার বাইক কেনার জন্য। দোকানে গিয়ে জানতে পারি যে বাইক বুক করতে হবে।তক্ষুনি তক্ষুনি তা পাওয়া যাবে না। পেতে পেতে অন্তত কুড়ি দিন লাগবে। আমার বন্ধুরাই তখন একরকম জোর করতে থাকে বাইক বুক করার জন্য। আমি এটিমে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা তুলেও ফেলি। এর মধ্যে এসে উপস্থিত হন আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার। তিনি এক অনন্য মানুষ। তার কথা অন্য এক ব্লগে বলব এখন। যাই হোক উনি আসায় একটা নতুন উদ্যম অনুভব করি আমি এবং আমার বন্ধুবর্গ। এর পরই অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। উনি শুধু একবার দোকানের কর্মচারী দের জিজ্ঞাসা করেন সত্যি কি বাইক সেদিন পাওয়া যাবে না? এই প্রশ্ন আমার বন্ধুরা আগেও করেছে বেশ কয়েকবার। প্রতি বারই না বাচক উত্তর পেয়েছি। এই বার হঠাৎই অন্য রকম উত্তর পেলাম। কর্মচারীটি বলে ওঠেন যে গাড়ী পাওয়া যাবে। আমরা নিতে পারবো কি? তখন আমার বন্ধুরা সোৎসাহে ঝাঁপিয়ে পরে। অর্ঘ্য আর অজন্তাদি অর্গ পশ্চাৎ বিবেচনা না করেই, এটিম থেকে কুড়ি কুড়ি চল্লিশ হাজার টাকা তুলে দেয়। তা দিয়ে সেই দিনই বাইক কেনা হয়। সেই বাইক প্রিন্সিপাল স্যার চলিয়ে নিয়ে আসেন। আমার অনুরোধে তিনি সেই বাইক দু দিন তিনি যে বাড়িতে ভারা থাকেন সেখানে রেখে দেন। আমি এদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এই ব্লগ টা লিখছিও সেই কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উদ্দ্যেশে। যে ভাবে বাইক কেনাটা হুজুগের মাথায় হল, ভবিষ্যতে হয়ত আরও অনেক জিনিষ কেনা হবে, কিন্তু এরকম হবে না। অনেক দিন এই দিনটার কথা মনে থাকবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল আজ আমার বাইক কেনার নয় দিন পূর্ণ হল। আর এটাও বলে রাখি, বাইক নিয়ে নিয়ে অনেক আদারে বাদারে ঘুরছি, যেখানে আগে কোন দিন যাবার কথা ভাবতে পারতুম না।

Monday, March 22, 2010

অনেক দিনের পর এলাম

ব্লগটা যখন শুরু করেছিলাম তখন শপথ করে ছিলাম নিয়মিত লিখবো। কিন্তু অনেক শপথের মতনই এটাও রাখতে পারি নি। দেখা যাক আর একটা চেষ্টা করে।