আজ শিক্ষকদিবস। সকাল থেকে
অজস্র এসএমএস আসছে। বেশীর ভাগই বেশ কিছু বছর আগে পাশ করে যাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের।
বর্তমান ও আছে। আজ খুব মনে পড়ছে সেই মানুষটার কথা। নাম ছিল সাতকড়ি নন্দি। ক্লাস
সেভেনে গিয়েছিলাম ফরাসী শিখতে মানুষটির কাছে। অচিরেই তিনি হয়ে উঠলেন আমার ইংরাজীরও
শিক্ষক। ক্রমশঃ কি করে যেন এই অকৃতদার মানুষটি, অচিরেই হয়ে উঠলেন আমার জীবনেরও
শিক্ষক, সে কথা আমি নিজেও বুঝতে পারি নি। তাঁর হাত ধরেই আমার ইংরাজীর প্রকৃত অক্ষর
চেনা। হাজার হাজার ঘন্টা ব্যায় করেছি তাঁর বাড়ীতে, চামড়ায় বাঁধান, সোঁদা গন্ধ ওঠা
বইয়ের মাঝে। অন্য একটা জগৎয়ের দরজা খুলে গিয়েছিল, তাঁর হাত ধরে। আমি দেখেছি, নীরবে
জ্ঞান সাধনা কাকে বলে।আমার মতন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী তাঁর দেশে বিদেশে ছরিয়ে রয়েছে।
একবারও বিদেশে না গিয়েও যে উচ্চারণে তাঁকে ফরাসী আর ইংরাজী বলতে শুনেছি তাতে অনেক
বিদেশি কেই মুগ্ধ হয়ে যেতে দেখেছি। আফশোষ জীবনের শেষ দিকে তাঁকে নিদারুন অর্থকষ্টে
ভুগতে হয়েছে। বাড়ির কাছে মোড়ের মাথায় রোয়াকে বসে থাকতেন। চেনাশোনা কেউ গেলেই
বলতেন, ১ টাকা ২ টাকা হবে বাবা। তখন শিক্ষকদের মাইনেই বা কত, আর তাঁর পেনশনই বা
কত। যে টুকু পেরেছি অর্থ সাহায্য করেছি। কিন্তু তখন সবে আমার নতুন চাকড়ি। তাই কখনও
কখনও মিথ্যা কথা বলে এড়িয়ে গিয়েছি। আমি জানি আমি মহাপাতক। আফশোষ এই জন্য যে নীরবে
তিনি যখন মারা গেলেন, তখন থাকতে পারি নি তাঁর পাশে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমার বাল্য
বয়সের পিতার মৃত্যুর থেকে কম কিছু না। আজ যে টুকু ভালবাসা, শ্রদ্ধা পাচ্ছি আমার
ছাত্র ছাত্রি দের কাছ থেকে, তার সবটাই এই মানুষটির জন্য। যেখানেই থাকুন স্যার, ভাল
থাকবেন।