প্রতি দিনের পাপক্ষয় করতে পড়াতে যাই কলেজে। সপ্তাহে পাঁচ দিন কলেজের মধ্যে তিন দিনই সকাল দশটায় ক্লাস থাকে। অতএব বাড়ির হাজারো কাজ করে, বাজার থেকে ফিরে, নাকে মুখে গুঁজে দৌড়ই পড়িমড়ি করে কলেজ পানে। বেশীরভাগই ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস। বছরের পর বছর সেই একই পড়ান, সেই কি ভাবে এঙ্গল, স্যাক্সন আর জুটরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছিল রোমান সাম্রাজ্যের এক কোণে পড়ে থাকা দ্বীপ গুলিতে, যেগুলি পরবর্তী কালে ক্ষ্যাত হয়েছিল ইংল্যান্ড নামে। এর পর আছে আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন আর এক যন্ত্রণা, পড়াতে হবে ক্লাসে ইংরাজিতে। যন্ত্রনাটা আমার নয়, আমার ছাত্র ছাত্রীদের। বেচারারা বাশীরভাগই ১২ ক্লাস অবধি বাংলায় ইংরাজি পড়ে এসেছে। ভাবছেন বাংলায় ইংরাজি, এ কি সোনার পাথরবাটি মার্কা জিনিস রে বাবা। আজ্ঞে আপনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি, যে মহামতি আলেকজান্ডার সেলুকাস কে কি বলেছিলেন---"সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।" তা ফেলে দিন না মশাই, এই বাংলায় ইংরাজি পড়ানোর ব্যাপারটাকে সেই বিচিত্রতার মধ্যেই। আর কবি কোলরিজ তো কবেই "suspension of disbelieve" এর কথা লিখেছিলেন। আরে ক্ষণকালের জন্য হলেও, ঝুলিয়ে রাখুন না সেই আপনার অবিশ্বাস করার ক্ষমতাকে। না হলে আপনার জিকে বাড়ান একটু। অমন আকাট হয়ে বসে থাকলে চলবে? বাড়ির কাছাকাছা বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলতে খোঁজ নিয়ে দেখুন না মশাই, কি ভাষায় ওখানে ইংরাজি পড়ান হয়। বছর তিনেক আগে ক্লাস করে বেড়োনোর পর একটি স্টুডেন্ট প্রশ্ন করেছিল, "স্যার এই ইংরাজি সাহিত্যের ইতিহাসের কোন বাংলায় লেখা বই নেই?" এখন আর রাগ হয় না। নির্লিপ্তের মতন উত্তর দিয়েছিলাম, "হয় তো বাবা, কিন্তু, ওটা পড়লে আর যাই হোক, ইংরাজি অনার্স পাস করা হয় না।" ছেলেটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমিও তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
কিন্তু তিন বছর আগে মুখ আর বুক একাকার হয়ে যায় নি। মানে বুঝলেন না তো? মানে বলছি তখনও ফেসবুক নামক জিনিষটি আপামর যুবসমাজকে গ্রাস করে নি। কিন্তু এখন ফেসবুক আছে। ফেসবুকে ত যখন তখন যে কোন প্রশ্ন ওবামা থেকে মণিকা লিওন্যাস্কি কে করে ফেলা যায়। তাই এক দিন সন্ধ্যাবেলা যখন আমার ফেসবুক একাউন্ট খুলে দেশের হাল হকিকতের খোঁজ খবর করছি, তখন অন্তর্জালের অন্তর থেকে বাণি ভেসে এল, "স্যার প্যারাডাইস লস্ট সিনেমাটা কিছুতেই নামাতে পারছি না। আপনি স্যার দেখেছেন?" বলতেই হয় না, দেখি নি। আরে দেখব কি, আমার ত তখন রীতিমতন ভীর্মি খাবার অবস্থা। মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যটাও সিনেমা হয়ে গেল?!!! তার পর গুগুল করে দেখলাম ওই নামে সিনেমা আছে বটে, কিন্তু তার বিষয়বস্তু এক্কেবারে আলাদা। হাঁফ ছেড়েও বাঁচলাম। অমন একটা মহাকাব্য যা পড়ে কল্পনায় নরক ভ্রমণ করা যায়, সে জিনিষ যদি সিনেমা হয়ে যায় তা হলে ত নরক হয়ে যাবে এক রকম। নরক যে আছে আমার, আপনার হৃদয়ে। তার রূপ যে প্রত্যেকের কাছে স্বতন্ত্র। তার কি হবে। ভাগ্যিস প্যারাডাইস লস্ট সিনেমা হয়ে যায় নি!
কিন্তু তিন বছর আগে মুখ আর বুক একাকার হয়ে যায় নি। মানে বুঝলেন না তো? মানে বলছি তখনও ফেসবুক নামক জিনিষটি আপামর যুবসমাজকে গ্রাস করে নি। কিন্তু এখন ফেসবুক আছে। ফেসবুকে ত যখন তখন যে কোন প্রশ্ন ওবামা থেকে মণিকা লিওন্যাস্কি কে করে ফেলা যায়। তাই এক দিন সন্ধ্যাবেলা যখন আমার ফেসবুক একাউন্ট খুলে দেশের হাল হকিকতের খোঁজ খবর করছি, তখন অন্তর্জালের অন্তর থেকে বাণি ভেসে এল, "স্যার প্যারাডাইস লস্ট সিনেমাটা কিছুতেই নামাতে পারছি না। আপনি স্যার দেখেছেন?" বলতেই হয় না, দেখি নি। আরে দেখব কি, আমার ত তখন রীতিমতন ভীর্মি খাবার অবস্থা। মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যটাও সিনেমা হয়ে গেল?!!! তার পর গুগুল করে দেখলাম ওই নামে সিনেমা আছে বটে, কিন্তু তার বিষয়বস্তু এক্কেবারে আলাদা। হাঁফ ছেড়েও বাঁচলাম। অমন একটা মহাকাব্য যা পড়ে কল্পনায় নরক ভ্রমণ করা যায়, সে জিনিষ যদি সিনেমা হয়ে যায় তা হলে ত নরক হয়ে যাবে এক রকম। নরক যে আছে আমার, আপনার হৃদয়ে। তার রূপ যে প্রত্যেকের কাছে স্বতন্ত্র। তার কি হবে। ভাগ্যিস প্যারাডাইস লস্ট সিনেমা হয়ে যায় নি!
No comments:
Post a Comment