Friday, September 5, 2014

শিক্ষক দিবস

আজ শিক্ষকদিবস। সকাল থেকে অজস্র এসএমএস আসছে। বেশীর ভাগই বেশ কিছু বছর আগে পাশ করে যাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের। বর্তমান ও আছে। আজ খুব মনে পড়ছে সেই মানুষটার কথা। নাম ছিল সাতকড়ি নন্দি। ক্লাস সেভেনে গিয়েছিলাম ফরাসী শিখতে মানুষটির কাছে। অচিরেই তিনি হয়ে উঠলেন আমার ইংরাজীরও শিক্ষক। ক্রমশঃ কি করে যেন এই অকৃতদার মানুষটি, অচিরেই হয়ে উঠলেন আমার জীবনেরও শিক্ষক, সে কথা আমি নিজেও বুঝতে পারি নি। তাঁর হাত ধরেই আমার ইংরাজীর প্রকৃত অক্ষর চেনা। হাজার হাজার ঘন্টা ব্যায় করেছি তাঁর বাড়ীতে, চামড়ায় বাঁধান, সোঁদা গন্ধ ওঠা বইয়ের মাঝে। অন্য একটা জগৎয়ের দরজা খুলে গিয়েছিল, তাঁর হাত ধরে। আমি দেখেছি, নীরবে জ্ঞান সাধনা কাকে বলে।আমার মতন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী তাঁর দেশে বিদেশে ছরিয়ে রয়েছে। একবারও বিদেশে না গিয়েও যে উচ্চারণে তাঁকে ফরাসী আর ইংরাজী বলতে শুনেছি তাতে অনেক বিদেশি কেই মুগ্ধ হয়ে যেতে দেখেছি। আফশোষ জীবনের শেষ দিকে তাঁকে নিদারুন অর্থকষ্টে ভুগতে হয়েছে। বাড়ির কাছে মোড়ের মাথায় রোয়াকে বসে থাকতেন। চেনাশোনা কেউ গেলেই বলতেন, ১ টাকা ২ টাকা হবে বাবা। তখন শিক্ষকদের মাইনেই বা কত, আর তাঁর পেনশনই বা কত। যে টুকু পেরেছি অর্থ সাহায্য করেছি। কিন্তু তখন সবে আমার নতুন চাকড়ি। তাই কখনও কখনও মিথ্যা কথা বলে এড়িয়ে গিয়েছি। আমি জানি আমি মহাপাতক। আফশোষ এই জন্য যে নীরবে তিনি যখন মারা গেলেন, তখন থাকতে পারি নি তাঁর পাশে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমার বাল্য বয়সের পিতার মৃত্যুর থেকে কম কিছু না। আজ যে টুকু ভালবাসা, শ্রদ্ধা পাচ্ছি আমার ছাত্র ছাত্রি দের কাছ থেকে, তার সবটাই এই মানুষটির জন্য। যেখানেই থাকুন স্যার, ভাল থাকবেন। 

Friday, October 19, 2012

Paradise Lost সিনেমাটা দেখেছ কি কেউ?

প্রতি দিনের পাপক্ষয় করতে পড়াতে যাই কলেজে। সপ্তাহে পাঁচ দিন কলেজের মধ্যে তিন দিনই সকাল দশটায় ক্লাস থাকে। অতএব বাড়ির হাজারো কাজ করে, বাজার থেকে ফিরে, নাকে মুখে গুঁজে দৌড়ই পড়িমড়ি করে কলেজ পানে। বেশীরভাগই ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস। বছরের পর বছর সেই একই পড়ান, সেই কি ভাবে এঙ্গল, স্যাক্সন আর জুটরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছিল রোমান সাম্রাজ্যের এক কোণে পড়ে থাকা দ্বীপ গুলিতে, যেগুলি পরবর্তী কালে ক্ষ্যাত হয়েছিল ইংল্যান্ড নামে। এর পর আছে আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন আর এক যন্ত্রণা, পড়াতে হবে ক্লাসে ইংরাজিতে। যন্ত্রনাটা আমার নয়, আমার ছাত্র ছাত্রীদের। বেচারারা বাশীরভাগই ১২ ক্লাস অবধি বাংলায় ইংরাজি পড়ে এসেছে। ভাবছেন বাংলায় ইংরাজি, এ কি সোনার পাথরবাটি মার্কা জিনিস রে বাবা। আজ্ঞে আপনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি, যে মহামতি আলেকজান্ডার সেলুকাস কে কি বলেছিলেন---"সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।" তা ফেলে দিন না মশাই, এই বাংলায় ইংরাজি পড়ানোর ব্যাপারটাকে সেই বিচিত্রতার মধ্যেই। আর কবি কোলরিজ তো কবেই "suspension of disbelieve" এর কথা লিখেছিলেন। আরে ক্ষণকালের জন্য হলেও, ঝুলিয়ে রাখুন না সেই আপনার অবিশ্বাস করার ক্ষমতাকে। না হলে আপনার জিকে বাড়ান একটু। অমন আকাট হয়ে বসে থাকলে চলবে? বাড়ির কাছাকাছা বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলতে খোঁজ নিয়ে দেখুন না মশাই, কি ভাষায় ওখানে ইংরাজি পড়ান হয়। বছর তিনেক আগে ক্লাস করে বেড়োনোর পর একটি স্টুডেন্ট প্রশ্ন করেছিল, "স্যার এই ইংরাজি সাহিত্যের ইতিহাসের কোন বাংলায় লেখা বই নেই?" এখন আর রাগ হয় না। নির্লিপ্তের মতন উত্তর দিয়েছিলাম, "হয় তো বাবা, কিন্তু, ওটা পড়লে আর যাই হোক, ইংরাজি অনার্স পাস করা হয় না।" ছেলেটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমিও তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
     কিন্তু তিন বছর আগে মুখ আর বুক একাকার হয়ে যায় নি। মানে বুঝলেন না তো? মানে বলছি তখনও ফেসবুক নামক জিনিষটি আপামর যুবসমাজকে গ্রাস করে নি। কিন্তু এখন ফেসবুক আছে। ফেসবুকে ত যখন তখন যে কোন প্রশ্ন ওবামা থেকে মণিকা লিওন্যাস্কি কে করে ফেলা যায়। তাই এক দিন সন্ধ্যাবেলা যখন আমার ফেসবুক একাউন্ট খুলে দেশের হাল হকিকতের খোঁজ খবর করছি, তখন অন্তর্জালের অন্তর থেকে বাণি ভেসে এল, "স্যার প্যারাডাইস লস্ট সিনেমাটা কিছুতেই নামাতে পারছি না। আপনি স্যার দেখেছেন?" বলতেই হয় না, দেখি নি। আরে দেখব কি, আমার ত তখন রীতিমতন ভীর্মি খাবার অবস্থা। মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যটাও সিনেমা হয়ে গেল?!!! তার পর গুগুল করে দেখলাম ওই নামে সিনেমা আছে বটে, কিন্তু তার বিষয়বস্তু এক্কেবারে আলাদা। হাঁফ ছেড়েও বাঁচলাম। অমন একটা মহাকাব্য যা পড়ে কল্পনায় নরক ভ্রমণ করা যায়, সে জিনিষ যদি সিনেমা হয়ে যায় তা হলে ত নরক হয়ে যাবে এক রকম। নরক যে আছে আমার, আপনার হৃদয়ে। তার রূপ যে প্রত্যেকের কাছে স্বতন্ত্র। তার কি হবে। ভাগ্যিস প্যারাডাইস লস্ট সিনেমা হয়ে যায় নি!

Tuesday, August 23, 2011

Freshers & Farewel 11

Feeling very sad today. Really will miss the outgoing third year. Today uploaded all the photos. So please check the link
Freshers 11

Wednesday, July 13, 2011

মুম্বাই বিষ্ফোরণ এবং মিলটন

কালকে রাতে খবর দেখতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ করে যখন চালালাম টিভিটা, তখন জানতে পারলাম পর পর বিষ্ফোরণ ঘটেছে মুম্বাইএ। কি ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে সেই মুহূর্তে আপনি ভেবে দেখুন সেই সব মানুষ গুলির বাড়ীতে যারা জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে তখন। কিছু দিন ধরেই খুব অনিশ্চয়তায় ভুগি বিনা কারণেই। কেন এমন হয় জানি না। কিন্তু মেয়ে স্কুল গেলে মনে হয়, ঠিক ঠাক ফিরবে তো ও। বউ অফিস গেলে, যতক্ষণ না ফিরে আসে বাড়ী, কি যেন গলার কাছে আটকে থাকে। আমি কি কোন কারণে বেশী হাইপারটেন্সড হয়ে পড়ছি? জানি না। তবে মনে পড়ে মহাকবি মিলটনের কথা। ১৬৩৭ সালে ওনার বন্ধু এডওয়ার্ড কিং এক মর্মান্তিক জাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর স্মৃতিতে মিলটন লেখেন Lycydas। এই কবিতায় বন্ধু হারানোর বেদণা যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনই পরিষ্ফুট হয়েছে ওনার নিজের জীবনের অনিশ্চয়তা, আর্তি। কি জানি মুম্বাইয়ের এই বিষ্ফোরণের ফলে কেউ Lycidas লিখবে কি না।

Tuesday, July 12, 2011

যা গেছে তা যাক

বাংলায় এখন নতুন জোয়ার। দিদির উৎসাহের সঙ্গী আমরা সবাই। কিন্তু, হাঁ, কিন্তু একটা থেকেই যাচ্ছে। কতটা সত্যি কাজ হচ্ছে, তা নিয়ে একটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। শুনছি নাকি কলকাতার রাস্তার ট্রাফিক সিগনালে রবীন্দ্রসংগীত বাজবে। কিন্তু এও তো শোনা যায়, বাংলার হাঁড়ির হাল আগেকার সরকার ভাঁড়ে মা ভবানী করে রেখে গেছে। কেন্দ্র সরকার বেঙ্গল প্যাকেজ দিয়ে রাজ্য কে উদ্ধার করতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু আদতে সে তো দানই। ভিক্ষের পয়সায় ফোফর দালালি মারা কি চলে? এদিকে তো সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতার ব্যাপারে দিদি নিশ্চুপ। বাজারে সব জিনিষের দাম তো আগুন। অথচ কাগজে পড়ছি যে খাদ্যের মুদ্রাস্ফীতি তাৎপূর্য ভাবে কমে গেছে। কিছুই বুজছি না বাবা।

Wednesday, December 22, 2010

বছর শেষে......

দেখতে দেখতে আর একটা বছর পার করে দিলাম। অন্যান্য বছরের মতনই এ বছরও প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য। একেবারে শূণ্য, সে কথাও হলফ করে বলতে পারি না। চার পাশে যে রাজনৈতিক হানাহানি শুরু হয়েছে, তাতে এখনও যে বেঁচে বর্তে আছি, আর করে কম্মে খাচ্ছি, এই বা কম পাওনা কি? আমরা বোধহয় বেশি বেশি চেয়ে চেয়ে ফেলছি।
(এই ব্লগ টা ২২ শে ফেব্রুয়ারী লিখেছিলাম। কিন্তু পাবলিশ করা হয় নি। আরও কিছু বোধহয় লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন আর কিছু মনে পড়ছে না। তাই আজই পাবলিশ করে দিচ্ছি। Better late than never.)

Saturday, April 17, 2010

আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে…

ছোটবেলা ভূগল বইএ পড়তাম যে বঙ্গদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। তখন নদী বলতে শুধু বুঝতাম গঙ্গা নদী। কিন্তু এখন বুঝি ধমনীর মতন সত্যি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই বঙ্গে আজস্র নদী। আমার বাড়ির আট-দশ কিলমিটারের মধ্যেই রয়েছে অনেক গুলোই নদী। সব গুলোই অবশ্য গঙ্গার শাখা নদী বা উপনদী। তা হোক না, নদী তো বটে।চন্দননগরের দক্ষিণদিকে দু কিলমিটারের মধ্যে রয়েছে ডিভিসি ক্যানেল, যা শহরের পশ্চিম দিকে গিয়ে নাম নিয়েছে কাঠকুন্তী খাল। আর ওরই কাছা কাছি আছে আরো দুটো নদী---কানা আর ঘিয়া।ঘিয়া ওরই মধ্যে একটু বড় নদী। নৌকা চলে, ধান বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ ডিভিসি ক্যানেলের ছবিটা এখানে দিলাম। পরে অন্য নদী গুলর ছবিও দেওয়ার চেষ্টা করব। 

Friday, March 26, 2010

এলোমেলো জীবন

বেশ কয়েক দিন ধরে জীবনটা বেশ এলোমেলো ভাবে গড়াচ্ছে। হাঁ এটাকে গড়ানো বলাই ভাল। তারই মধ্যে মাঝে মাঝে আসছে না যে দখিনা বাতাস তা বলা যাবে না। এই যেমন কদিন আগে হল। আমার ইচ্ছা ছিল একটা বাইক কেনার পরের মাসে। এতদিন একটা ই-বাইক, অর্থাৎ ব্যাটারী চালিত বাইক চালাচ্ছিলাম। কিন্তু যতই পরিবেশের প্রতি দায়ব্ধ্যতা, সাশ্রয়ী---এই সব বোঝাই না কেন নিজের মনকে, সেটা খুব একটা ভাল ছিল না। ইদানিং নড়বড় করত বেশী। ব্রেকের সমস্যা ছিল, বিশেষ করে পেছনে কেউ বসলে। তাই ভেবেছিলাম এবার একটা ভাল পেট্রল চালিত বাইক কিনব। আমার যা জীবন যাত্রা তাতে হিরো হোন্ডার সুপার সপ্লেন্ডার বাইকটাই ভাল বা বলা ভাল ওটাই ঠিক ঠাক যায় আমাদের লাইফ স্টাইলের সাথে। তাই গত বৃহস্পতিবার গিয়েছিলাম দেখতে শোরুমে গাড়ীটা দেখতে। আমার সাথে আমার বেশ কিছু সহকর্মীও গিয়েছিলেন। তাদের সহকর্মী না বলে বন্ধু বলাই ভাল। এই ব্যাপারে সত্যি আমি ভাগ্যবান। কারণ কর্মস্থলে নাকি কেউ বন্ধু হয় না, এই আপ্ত বাক্য কে ভুল প্রামাণিত করে, আমার সত্যি বেশ কয়েক জন ভাল বন্ধু আছে কলেজে। এরা হল দেবাশীষ, অর্ঘ্য, গৌরব, অজন্তাদি, জয়তী, আর তার ওপর ছাতার মতন সব রোদ বৃষ্টি আড়াল করে থাকা চপলদা। তা সেদিন চপলদা ছাড়া, বাকীরা প্রত্যেকেই গিয়েছিল আমার সাথে। ওরা খুব ইয়ার্কী মেরে হেউত তুলেছিল আমার বাইক কেনার জন্য। দোকানে গিয়ে জানতে পারি যে বাইক বুক করতে হবে।তক্ষুনি তক্ষুনি তা পাওয়া যাবে না। পেতে পেতে অন্তত কুড়ি দিন লাগবে। আমার বন্ধুরাই তখন একরকম জোর করতে থাকে বাইক বুক করার জন্য। আমি এটিমে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা তুলেও ফেলি। এর মধ্যে এসে উপস্থিত হন আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার। তিনি এক অনন্য মানুষ। তার কথা অন্য এক ব্লগে বলব এখন। যাই হোক উনি আসায় একটা নতুন উদ্যম অনুভব করি আমি এবং আমার বন্ধুবর্গ। এর পরই অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। উনি শুধু একবার দোকানের কর্মচারী দের জিজ্ঞাসা করেন সত্যি কি বাইক সেদিন পাওয়া যাবে না? এই প্রশ্ন আমার বন্ধুরা আগেও করেছে বেশ কয়েকবার। প্রতি বারই না বাচক উত্তর পেয়েছি। এই বার হঠাৎই অন্য রকম উত্তর পেলাম। কর্মচারীটি বলে ওঠেন যে গাড়ী পাওয়া যাবে। আমরা নিতে পারবো কি? তখন আমার বন্ধুরা সোৎসাহে ঝাঁপিয়ে পরে। অর্ঘ্য আর অজন্তাদি অর্গ পশ্চাৎ বিবেচনা না করেই, এটিম থেকে কুড়ি কুড়ি চল্লিশ হাজার টাকা তুলে দেয়। তা দিয়ে সেই দিনই বাইক কেনা হয়। সেই বাইক প্রিন্সিপাল স্যার চলিয়ে নিয়ে আসেন। আমার অনুরোধে তিনি সেই বাইক দু দিন তিনি যে বাড়িতে ভারা থাকেন সেখানে রেখে দেন। আমি এদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এই ব্লগ টা লিখছিও সেই কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উদ্দ্যেশে। যে ভাবে বাইক কেনাটা হুজুগের মাথায় হল, ভবিষ্যতে হয়ত আরও অনেক জিনিষ কেনা হবে, কিন্তু এরকম হবে না। অনেক দিন এই দিনটার কথা মনে থাকবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল আজ আমার বাইক কেনার নয় দিন পূর্ণ হল। আর এটাও বলে রাখি, বাইক নিয়ে নিয়ে অনেক আদারে বাদারে ঘুরছি, যেখানে আগে কোন দিন যাবার কথা ভাবতে পারতুম না।

Monday, March 22, 2010

অনেক দিনের পর এলাম

ব্লগটা যখন শুরু করেছিলাম তখন শপথ করে ছিলাম নিয়মিত লিখবো। কিন্তু অনেক শপথের মতনই এটাও রাখতে পারি নি। দেখা যাক আর একটা চেষ্টা করে।

Sunday, August 31, 2008

মা কে?

বহু দিন হল নতুন করে কিছু লেখা হয় নি। রোজই ভাবি কিছু একটা লিখব, কিন্তু আলস্য এসে এমন চেপে ধরে যে আর কিছু লিখতে ভাল লাগে না। এখন তো খবর শুধু একটাই, টাটা রা মটর কারখানা গুটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে যাবে না কি, অনন্ত কাল ডামাডোল চলবে? কারও কোন মন নেই আজকাল অন্য কোন ব্যাপারে। শুধু টাটা আর টাটা টিভি খুললেই সর্বক্ষণ দেখিয়ে চলেছে। এর থেকে বড় রিয়েলিটি শো আর হয় না এ বঙ্গে। এ সবের মাঝেও একটা খবরে আজ চোখ আটকে গেল কাগজে। এক মা অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রী করে দিয়েছিলেন আর এক মা হতে চাইছেন, কিন্তু পারছেন না এম্ন এক মা কে। চার মাস বাদে জন্মদাত্রী মা সন্তান ফেরত চাইছেন পালিকা মায়ের কাছ থেকে। কাগজে আরও লিখেছে যে সন্তান টি হবার আগে থাকতেই, তার সাথে পালিকা মায়ের পাঁচ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল, সন্তান হবার পরেই তিনি তাকে তাঁর হাতে দিয়ে দেবে্ন। জন্মদাত্রী মা হসপিটালেও পালিকা মায়ের নাম নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়েও দু টো কথা থাকে। টাকা দিয়েই কি কোন মায়ের প্রসব যন্ত্রণা কিনে নেওয়া যায়? অন্য দিকে যে পালিকা মা ছোট্ট বাচ্চাটিকে প্রথম থেকে বুকের মধ্যে জরিয়ে ধরে তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেছে তার যন্ত্রণা টাও এখন কি কম হবে।

Sunday, April 13, 2008

পয়লা বৈশাখের শপথ

আজ পয়লা বৈশাখ, ১৪১৫। ইংরাজী বছরের ধাক্কায় আজ বাংলা বছর কেমন যেন কোণথাসা। তবুও এই পয়লা বৈশাখের দিনটা অন্য সব দিনের থেকে কোথায় যেন আলাদা। গতকাল এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে বলে গরমের তেজটা যেন একটু বাগে আছে। তাই ভোরে কখন সময় ললিত থেকে ভৈরবী তে গরেয়ে গেছে খেয়াল ছিল না। পাশে চেয়ে দেখলাম মেয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে। দেখে মায়া হল। আর তখনই মনে পড়ল ঝাড়খন্ডের সেই মেয়েটার কথা যে বাবা মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়েছিল রাজস্থান। বেড়ানোর শেষে যখন বাড়ী ফেরার পালা এল তখন বাবা মা তাকে বললো যে সে আর তাদের সাথে ফিরতে পারবে না বাড়ী। কি তার অপরাধ? না, জানতে চাই নি সে মেয়ে। কারণ সে তখন বুঝে গেছে কি তার অপরাধ। সে যে মেয়ে হয়ে জন্মেছে। এই গরীব দেশে মেয়ে হয়ে জন্মানো কি কম অপরাধ? ট্রেন চলে গেল। একা দাঁড়িয়ে রইল সেই মেয়েটা স্টেশনে। কেঁদে চলেছে অঝোরে। না ভয়ে নয়। সে বড় সাহসী। মেয়ে তো। কাঁদছে অভিমানে। বুক ভরা অভিমান তার। পুলিশ তার বাবা মাকে খুঁজে বের করলেও সে আর ফিরবে না তাদের কাছে। কেন ফিরবে সে? সারে যাঁ সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা। সেই চ্ছোট্ট মেয়েটার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাহায্য এসেছে অফুরন্ত। কিন্তু যে সব মেয়ের কথা খবর হয় না, যে সব মেয়ে কেঁদে চলে জীবন জুড়ে? আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকালেই সেই মেয়ে গুলোর চোখ যেন আমি দেখতে পাই। তাই আজ শপথ করি দাঁড়াবো আমি তাদের পাশে, দাঁড়াতে যে আমাকে হবেই। আমারো যে একটা মেয়ে আছে। এ শপথ বাংলা নববর্ষের শপথ, ইংরাজী নববর্ষের নয়। তাই ভাঙ্গবে না আশা করি।

জীবন তরঙ্গে ভেসে যাওয়া

আমাদের চারপাশে কত না ঘটনাই প্রতি নিয়ত ঘটে চলেছে। তার মধ্যে সব কিছুই তো আর আমাদের সমান ভাবে নাড়া দেয় না। কিছু ঘটনা প্রবল ভাবে নাড়া দিয়ে যায়, আবার কিছু ঘটনা একটু খানিকের বেশি দাগ কাটে না। এই নানা রকম দাগ ফেলা ঘটনা নিয়েই আমার এই ব্লগ।